
মোহাম্মদ ছানাউল্লাহ,এভিয়েশন করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা — জাতীয় নির্বাচনের আর এক মাসও বাকি নেই। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হঠাৎ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে তিনজন নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়ায় বিভিন্ন মহলে বিস্ময় ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সরকারের একজন উপদেষ্টা, একজন বিশেষ সহকারী এবং নির্বাচন কমিশনের সচিব। বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এই তিনজনের কারওই এভিয়েশন ব্যবসা বা বিমান পরিচালনায় সরাসরি কোনো অভিজ্ঞতা নেই। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় আয়োজনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশন সচিবের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হওয়াকে অনেকে স্বার্থসংঘাত ও প্রশাসনিক শিষ্টাচারের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন।
প্রজ্ঞাপনে নতুন নিয়োগ
বুধবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে এই পরিবর্তন আনা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন করে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে— খলিলুর রহমান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ; সরকারের একজন বিশেষ সহকারী; এবং নির্বাচন কমিশনের সচিব। তবে প্রজ্ঞাপনে তাদের মেয়াদ, দায়িত্বের ধরন কিংবা কী বিবেচনায় এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে— সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মত
এভিয়েশন খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস একটি কারিগরি ও বাণিজ্যিকভাবে জটিল প্রতিষ্ঠান। এখানে পরিচালনা পর্ষদে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এভিয়েশন, ফিন্যান্স ও কর্পোরেট গভর্ন্যান্স বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞতাহীন পরিচালকদের উপস্থিতি সংস্থার কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একজন সাবেক বিমান কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নির্বাচনের ঠিক আগে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ একজন কর্মকর্তার এমন একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে যুক্ত হওয়া প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।”
প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা
এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নীতিনির্ধারণী মহলেও আলোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার যৌক্তিকতা কী এবং এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি কতটা প্রভাবিত হতে পারে। এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কিংবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।