
মোঃ মাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ইয়াংরিং–মাংক্রাত পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বিতর্কিত শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ইয়াংরিং–মাংক্রাত পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মংমরি মার্মার বিরুদ্ধে মদ্যপান অবস্থায় বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে হেনস্তা, সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৬ ডিসেম্বর দৈনিক পূর্ব দেশ এবং ২৫ ডিসেম্বর দৈনিক নতুন বাংলাদেশ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরও একই বিদ্যালয়ে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
প্রবাহ News24-এর অনুসন্ধানে ইয়াংরিং পাড়া কারবারি এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শারমিন আক্তারের বক্তব্য পাওয়া যায়। তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে এবং এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কামাল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে বিদ্যালয়ের বিতর্কিত শিক্ষক মংমরি মার্মার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শারমিন আক্তার তার বক্তব্যে বলেন, তিনি জেলা ও উপজেলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি সম্মান রেখে বিষয়টির একটি নিরপেক্ষ ও সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের পাড়া কারবারি তার বক্তব্যে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের স্বার্থে দায়িত্বশীল ও গ্রহণযোগ্য শিক্ষকের নেতৃত্ব প্রয়োজন। তিনি শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে শিক্ষিকা শারমিন আক্তারকে দায়িত্বে বহাল রাখার পক্ষে মত দেন। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও নানা আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
Probaho News24 — প্রবাহিত হোক তথ্য, উন্মোচিত হোক সত্য।