
শিশির আহমেদ ( স্টাফ রিপোর্টার ধামরাই )
ধামরাই রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একসময়ের পৌর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আরফান মিয়া এবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জিয়া মঞ্চে যোগ দিয়ে যুগ্ম সচিবের পদে বসেছেন। তবে তিনি পৌর কমিটির নাকি থানা কমিটির নেতা — এ তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক রূপান্তর নাকি পরিকল্পিত অনুপ্রবেশ ?
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে, আরফান মিয়া তার পূর্ব রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে টাকার বিনিময়ে বিএনপির সহযোগী সংগঠনে পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শহীদ সাদ হত্যা মামলার অজ্ঞাত আসামি তালিকায় নাম :
সূত্র জানায়, ধামরাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র আফিকুল ইসলাম সাদ হত্যা মামলাসহ
ঢাকায় সংঘটিত কয়েকটি মামলায় আরফানের নাম অজ্ঞাত বা এজাহারভুক্ত আসামির তালিকায় রয়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর বিএনপির অভ্যন্তরে চরম অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে।
তৃণমূলের ক্ষোভ ও প্রশ্ন : স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা প্রশ্ন তুলেছেন— “একজন আওয়ামী লীগের পদধারী ব্যক্তি কীভাবে বিএনপিতে স্থান করে নিতে পারেন?” তারা আরও অভিযোগ করেন, “এ ধরনের পল্টিবাজ রাজনীতিবিদরা দলে অনুপ্রবেশ করে নির্বাচনের মাঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং বিভিন্ন অপকর্মের দায় বিএনপির ওপর চাপিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা : মরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ধরনের বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ অনুপ্রবেশ দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বিএনপির সংগঠনকে চাপে ফেলতে পারে। তাদের পরামর্শ, দলীয় মনোনয়ন ও পদবণ্টনের আগে ব্যক্তির রাজনৈতিক অতীত ও আইনগত অবস্থান খতিয়ে দেখা জরুরি।